AmraSobai

ভলান্টিয়ারিং হল কোন ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর একটি স্বেচ্ছাসেবী কাজ যা অবাধে এবং বিনা পারিশ্রমিকে সেবার উদ্দেশ্যে সময় ও শ্রম ব্যয় করে করা হয় ।

ভলান্টিয়ারিং করার সবচেয়ে বড় লাভ হচ্ছে মানসিক প্রশান্তি । এছাড়াও ভলান্টারি কাজ নেটওয়ার্কিং করতে, নিজের স্কিল ডেভেলপ করতে, ক্যারিয়ারে এগিয়ে যেতে এবং সুখী জীবন যাপনে সহায়াতা করে ।

কেন ভলান্টিয়ারিং!

আমরা আমাদের জীবনে ব্যাস্ততার সমুদ্রে ডুবে আছি । জীবনের প্রতি মুহূর্তেই থাকে আমাদের নানা রকম ব্যাস্ততা। ব্যস্ত জীবনযাপনের মধ্যে ভলান্টিয়ারিং করা খুব সহজ কাজ নয়। তবে ভলেন্টিয়ারি কাজ সমাজ, দেশ, এমন কি পৃথিবীরে জন্য খুবই জরুরি ।এছাড়াও ভলান্টিয়ারিং ভলেন্টিয়ারদের জন্যও উপকারি ।

ভলান্টিয়ারিং দ্বারা অভাবী লোক ,অসহায় প্রানী, সুবিধাবঞ্চিত সম্প্রদায়ের জন্য এবং কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় অত্যাবশ্যকীয় সেবা ও সহায়তা সহজে সরবরাহ করা সম্ভব হয়। ভলান্টিয়ারিং কাজ উন্নয়নশীন দেশের জন্য খুবই জরুরি ।

এছাড়া যারা ভলান্টিয়ারিং করেন তারা খুব সহজে বন্ধু খুঁজে পেতে পারে,বিভিন্ন ধরনের মানুষের সাথে একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক তৈরি করতে এবং নতুন নতুন দক্ষতা শিখতে পারেন। যা আমাদের ক্যারিয়ারকে এগিয়ে নিতে সহায়তা করে।

ভলান্টিয়ারিং মানসিক এবং শারীরিক স্বাস্থ্য ভাল রাখতে সহায়তা করে । এটি স্ট্রেস হ্রাস করতে, হতাশার বিরুদ্ধে লড়াই করতে এবং মানসিকভাবে প্রফুল্ল রাখতে সাহায্য করে । যদিও এটি সত্য যে আপনি যত বেশি ভলান্টিয়ারিং করবেন, তত বেশি সুফল পাবেন। তবে এটা কখনোই উচিত নয় ব্যস্ততা রেখে ভলান্টিয়ারিং করা। উচিত হচ্ছে নিজের ব্যাস্ততার ফাঁকে নিঃস্বার্থে ভাবে ভলান্টিয়ারিং করা ।

ভলান্টিয়ারিং এর লাভ !

ভলান্টিয়ারিং এর সুফল অসংখ্য । তবে সেখান থেকে বাছাই করা কিছু সুফল বা লাভ নিচে উপস্থাপন করা হল।

ভলান্টিয়ারিং নেটওয়ার্কিং করতে সাহায্য করে  ।

বর্তমান বিশ্বের একটি বড় শক্তি হচ্ছে নেটওয়ার্কিং । যার যত ভাল নেটওয়ার্কিং সে তত বেশি সুবিধা ভোগ করে । ভলান্টিয়ারিং নেটওয়ার্কিং করার একটি সহজ উপায়। ভলান্টিয়ারদের বিভিন্ন ধরনের, বিভিন্ন পেশার ও বিভিন্ন বয়সের মানুষের সাথে কাজ করার পরিচিত হওয়ার সুযোগ থাকে। প্রায় সবাই-ই ভলান্টিয়ারদের বেশ গুরুত্ব দেয়। যে কারনে ভলেন্টিয়াররা খুব সহজে একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে পারে । আর নিজের কাজটা ঠিকমত গুছিয়ে করতে পারলে যে কোন গুরুত্বপূর্ণ মানুষের চোখে পড়াটাও সহজ । যা নিজের প্রয়োজন মতো কাজ পেতেও সাহায়তা করে ।

ভলান্টিয়ারিং নতুন বন্ধু পেতে সাহায্য করে  

পৃথিবীতে সবথেকে সুন্দর ও মধুর সম্পর্ক হলো বন্ধুত্বের সম্পর্ক  | ভলান্টিয়ারিং আমাদের নতুন নতুন মানুষের সাথে কাজ করার সুযোগ করে দেয় । যা আমাদের সেরা বন্ধু নির্বাচনে সাহায্য করে।

“নতুন বন্ধু খুজে পাওয়ার এবং বন্ধুত্বের সম্পর্ক আর শক্তিশালী করার সব থেকে ভাল উপয়া হলো একই কাজ দুজনে ভাগাভাগী করে করা । আর ভলান্টিয়ারিং করলে সহজেই আমরা এই সুযোগ পেতে পারি ।” 

একটা ভালো বন্ধু অন্য বন্ধুর একজন ভালো অবিভাবকও হতে পারে | যে তাকে তার জীবনের কঠিন সময়ে, সঠিক পথ দেখিয়ে তাকে সমস্যামুক্ত করতে পারে ! ভলেন্টিয়াররা যখন একত্রে কাজ করে তখন তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয় । আপনি যদি অন্য ব্যক্তির সাথে গভীর সংযোগের প্রয়োজন বোধ করেন তবে ভলান্টিয়ারিং করতে পারেন।

ভলান্টিয়ারিং নতুন স্কিল গঠন করে

বর্তমান বিশ্বে শুধু পুঁথিগত বিদ্যে দিয়ে আর নিজের কাঙ্ক্ষিত লক্ষে যাওয়া যায় না ।এর জন্য প্রয়োজন হয় আমদের বিভিন্ন দক্ষতা । অনেক সময় শুধু মাত্র নিজের দক্ষতা দিয়েই আউট সোর্সিং সাইট থেকে অনেক আয় করা সম্ভব হয়।  যা বর্তমান সময়ে  বেশ জন প্রিয় ।

ভলান্টিয়ারিং করতে গেলে নতুন স্কিল শেখা যায় পাশাপাশি নিজের মধ্যে থাকা স্কিল গুলোও বাড়িয়ে নেওয়া যায় । ভলান্টিয়ারিং আমদের বিভিন্ন ধরনের সফট স্কিল ও হার্ডস্কিল গঠন করতে সাহায্য করে । অনেক সময় ভলেন্টিয়াররা বিনা মুল্যে বিভিন্ন ধরনের স্কিল ডেভলপমেন্ট ট্রেনিং পেয়ে থাকে ।এছাড়া ভলান্টিয়ারিং আমাদের প্রফেশনাল লাইফে কাজ করা সহজ করে দেয় । তাই যারা আমরা নিজেরদের দক্ষতা বাড়াতে চাই তারা অবশ্যই ভলান্টিয়ারিং করতে পারি ।

AmraSobai Eid clothes and salami among street children
আমরা সবাই এর পথ শিশুদের মাঝে ঈদের পোশাক ও সালামি বিতরণ শেষে ভলান্টিয়ারগন

 

ভলান্টিয়ারিং যোগাযোগ দক্ষতা বাড়ায় 

আমাদের জীবনের উন্নতি করার বড় হাতিয়ার হচ্ছে কমিউনিকেশন স্কিল বা যোগাযোগ দক্ষতা। যার যোগাযোগ দক্ষতা যত ভাল জীবনে সে তত বেশি সুবিধা গ্রহন করতে পারে। আমদের কাঙ্ক্ষিত চাকরিটা পাওয়ার আগে আমাদের সবার ভাইভা দিতে হয়, সেখানে যার যোগাযোগ দক্ষতা যত ভাল সে তত ভাল করে । সহজ করে বললে জীবনের সব জায়গায় আমাদের কমিউনিকেশন স্কিলের দরকার পরে।

কমিউনিকেশন ভাল করার সব থেকে সহজ উপায় হলো ভলান্টিয়ারিং করা । ভলান্টিয়ারিং আমাদের বিভিন্ন ধরনের মানুষের সাথে মেশার সুযোগ করে দেয় । যা আমাদের কমিউনিকেশন দক্ষতাকে বাড়িয়ে তোলে ।

ভলান্টিয়ারিং নেতৃত্বের গুনাবলি তৈরি করে। 

ভলান্টিয়ারিং লিডারশিপ স্কিল বা নেতৃত্বের গুন বাড়াতে সাহায্য করে । লিডারশিপ স্কিল আমাদের বাস্তব জীবনে ও আমাদের কর্মক্ষেত্রের জন্য খুবই জরুরি । ভলান্টিয়ারিং করার সময় দেখা যায় বেশির ভাগ সময় টিম হিসেবে কাজ করতে হয় যেখানে একজনকে নেতৃত্ব দিতে হয় । যার ফলে ভলেন্টিয়ারগন নেতৃত্ব দেওয়ার  সুযোগ পান । যা ভলেন্টিয়ারদের নেতৃত্বের গুণাবলী গঠনে সাহায্য করে।

ভলান্টিয়ারিং চাকরির ক্ষেত্রে এগিয়ে রাখে 

চাকরির ক্ষেত্রে এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এখন শুধু  একাডেমিক সার্টিফিকেট দিয়ে চাকরি পাওয়া যায় না। দরকার পরে বিভিন্ন ধরনের দক্ষতা ও বাস্তব অভিজ্ঞতা। একদম ফ্রেশারদের জন্য চাকরির সুযোগ খুবই কম থাকে। অভিজ্ঞতা না থাকার জন্য আমরা অনেক জায়গায় আবেদন পর্যন্ত করাও সম্ভব হয় না।

AmraSobai Iftar Event
আমরা সবাই এর পথ মানুষদের মাঝে ইফতার বিতরন শুরুতে ভলান্টিয়ারগন

এদিকে লেখাপড়া করার সময় চাকরি করাও সম্ভব হয়ে ওঠে না । যে কারনে আমরা ভলান্টিয়ারিং করতে পারি । চাকরির ক্ষেত্রে যেসব অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা প্রয়োজন তা একজন ভলেন্টিয়ার সহজেই অর্জন করতে পারে । আমারা চাইলে আমরা যে সেক্টরে ক্যারিয়ার গড়তে চাই  সে ধরণেরই কোন একটা প্রতিষ্ঠানে ভলান্টিয়ারিং করতে পারি । যা ভবিষ্যতে আমাদের  চাকরিক্ষেত্রে এগিয়ে রাখবে।

তবে অন্য সেক্টরে ভলান্টিয়ারিং  করলেও সমস্যা নেই। যে কোন ধরণের ভলান্টিয়ারিং-ই সিভিতে অভিজ্ঞতা, এক্সট্রা-কারিকুলার অ্যাক্টিভিটি হিসেবে যোগ করতে পারব। সামাজিক সংগঠন বা প্রতিষ্ঠানে ভলান্টিয়ারিং এর অভিজ্ঞতা থাকলে তা যে কোন চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠানেই গুরুত্বের সাথে নেওয়া হয়।

ভলান্টিয়ারিং মানসিক ভাবে সুস্থ রাখে

আমাদের জীবনের বিভিন্ন সময় আমরা মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পরি । হঠাৎ করেই  একাকীত্ব আমদের জীবকে ঘিরে ফেলে । হতাশা, রাগ দুশ্চিন্তা  ও মানসিক উদ্বেগের মতো সমস্যার সম্মুখীন আমদের প্রায় ই হতে হয় । সেসব মানসিক সমস্যার মোকাবেলা ভলেন্টিয়াররা খুব ভাল ভাবে করতে পারেন।

“ দুশ্চিন্তা, হতাশা, পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার এবং অবসেসিভ কমপ্লাসিভ ডিসঅর্ডার এর মতো মানসিক সমস্যা থেকে বের হতে ভলান্টিয়ারিং সহায়তা করে।”

কারন ভলান্টিয়ারিং করার সময় অনেক ধরনের বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয়, অনেক ধরনের মানুষের সাথে মিশে কাজ করতে হয়। যা একজন মানুষকে মানসিক চাপ থেকে মুক্ত রাখে এবং মানসিক ভাবে সুস্থ রাখে।

ভলান্টিয়ারিং শারীরিক ভাবে সুস্থ রাখে

ভলান্টিয়ারিং আমাদের অন্যদের তুলনায় বেশি সুস্থ  রাখে। গবেষণায় দেখা গেছে যে, যারা ভলান্টিয়ারিং করেন তাদের মৃত্যুহারের হার তুলনামূলক কম।

ভলেন্টিয়ারগন অন্যদের তুলনায় বেশি হাঁটাচলা করে, প্রতিদিন বিভিন্ন ধরনের কায়িক ও মানসিক শ্রম দিয়ে কাজ করে । যা  দীর্ঘস্থায়ী ব্যথার লক্ষণগুলি হ্রাস করে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়, । যা ভলেন্টিয়ারদের সব সময় সুস্থ রাখতে সাহায়তা করে।

ভলান্টিয়ারিং আত্মবিশ্বাসী করে তোলে 

আত্মবিশ্বাস জীবনের সফলতার মূল চাবিকাঠি। আত্মবিশ্বাস দিয়েই মানুষ অসম্ভবকে সম্ভব করেছে । আমরা আমদের জীবনে বিভিন্ন সময় আত্মবিশ্বাসের অভাবে ভোগি । আমরা অনেক কিছু  জানলেও আত্মবিশ্বাস এর অভাবে উপস্থাপন করতে পারি না । যে কারনে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ধরনের সুযোগ হাত ছাড়া হয়ে যায়।

আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর সহজ একটি  উপায় হলো ভলান্টিয়ারিং ।  ভলেন্টিয়ারগন সবসময় আত্মবিশ্বাসী হয়ে থাকে । কারন ভলান্টিয়ারিং নিজের সম্পর্কে জানতে সাহায্য করে যা আমাদের আত্মবিশ্বাসী করে তোলে । ঠিক সময়ে কাজ শেষ করে, বিভিন্ন মানুষের সাথে ডিল করে বা বিভিন্ন ইভেন্ট পরিচালনা করতে করতে এক সময় আমরা নতুন ভাবে তৈরি হয়ে যাব। যা জীবনের প্রতি ক্ষেত্রে কাজে লাগাতে পারব।

ভলান্টিয়ারিং জীবনের সুখ ও পূর্ণতা নিয়ে আসে

ভলান্টিয়ারিং এমন একটি কাজ যা আমরা নিজের ইচ্ছাই বিনা বেতনে সেবার  উদ্দ্যশ্যে করে থাকি। আমরা যা নিজের ইচ্ছে তে করি তাতে একটা অন্যরকম আনন্দ থাকে আর যখন আমর স্বেচ্ছায় দেওয়া শ্রম কারো জীবনের বা কোন অবস্থার পরিবর্তন করবে তখন এই সুখ আরো বেড়ে যাবে। ভলান্টিয়ারিং এমন এক শক্তি যা দিয়ে পৃথিবী বদলে দেওয়া সম্ভব।

প্রবাদ আছে- “ভোগে নয়, ত্যাগেই প্রকৃত সুখ”  ভলান্টিয়ারিং হলো সেই জায়গা যেখানে মানুষ বিনা স্বার্থে কাজ করে নিজেকে বিলিয়ে দিতে পারে  । সেই বিলিয়ে দেওয়ার মধ্যেই আছে পূর্ণতা আছে প্রকৃত স্বার্থকতা । আপনি যদি ভলান্টিয়ারিং না করেন তাহলে জানতেই পারবেন না সুখি হওয়া কত সহজ । যদি আপনি সুখী হতে চান এবং জীবনকে অন্য এক পূর্ণতা দিতে চান তাহলে আপনার ভলান্টিয়ারিং করা উচিত।